কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কীটনাশক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাককে অবৈধভাবে সার মজুদ করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬- এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তার শ্বশুরবাড়ি কৃষ্ণপুর গ্রামে মজুদ থাকা ৫০ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। অপরদিকে মেসার্স চৌধুরী ব্রাদার্স এর প্রতিনিধি তারিকুজ্জামান নিয়ম বহির্ভূতভাবে আব্দুর রাজ্জাকের কাছে সার বিক্রয় করায় তাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের শ্বশুর বাড়ী ও বহলবাড়ীয়া ইউনিনের সার ডিলার মেসার্স চৌধুরী ব্রাদার্সের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজ শাহীন খসরু। এসময় উপস্থিত ছিলেন মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মতিয়র রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
জব্দকৃত সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিসিআইসি ডিলারের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি ব্যতিরেকে প্রকৃত কৃষকের মাঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিয়মানুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ যৌথ বাহিনীর সহায়তায় আমরা মিরপুর উপজেলার একটি বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে সার ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘন করায় সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যবসায়ীকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
কৃষকদের সার নিয়ে যেন কোনো প্রকার কৃত্রিম সংকটে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করা বা অবৈধ মজুদদারির মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ডিলার এবং ব্যবসায়ীদের আমরা পরিষ্কারভাবে সতর্ক করে দিতে চাই—কৃষকদের স্বার্থ বিঘ্নিত করে এমন কাজ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এবং সাধারণ কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের এ ধরনের অভিযান ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
