কুষ্টিয়ার দুটি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য। প্রতিষ্ঠান দুটিতে মোট ২৭ জন শিক্ষক থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর মধ্যে একটি কলেজ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনিও অকৃতকার্য হয়েছেন। অন্য কলেজ থেকে আটজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছেন।
কলেজ দুটি হলো কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ এবং মিরপুর উপজেলার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ।
স্থানীয় ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজটি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। চলতি বছর কলেজটি থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও দুজন অনুপস্থিত ছিলেন। বাকি একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হন।
জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা গ্রাম থেকে ধরে ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করি। এটি চরসংলগ্ন এলাকা। শিক্ষার্থীদের ডাকতে গেলে কেউ ধান কাটে, কেউ বলে পরে আসবে। ২০১৫ সাল থেকে আমাদের ভাটা শুরু হয়েছে। তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুজন অনুপস্থিত ছিল, একজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। সেও ফেল করেছে।’
অন্যদিকে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর বামুনপাড়ায় অবস্থিত হাজী নুরুল ইসলাম কলেজেও এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। বাকি আটজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
হাজী নুরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অবৈতনিকভাবে ২৬ বছর ধরে কলেজের পেছনে শ্রম দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের বেতন হয়নি। এবার আমাদের বিপর্যয় হয়েছে। আমরা ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের টাকা-পয়সা দিয়ে কলেজে ভর্তি করাই। সেক্ষেত্রে এবার দুর্ভাগ্য, যার ফলে আমাদের কেউ পাস করতে পারেনি।’
এদিকে, যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উভয়ই কমেছে।
