পদ্মা নদীর চরের আধিপত্য বিস্তার ও দখলকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর মধ্যে তীব্র ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা ব্যাপক গোলাগুলি চলে। এ সময় প্রায় ৫ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হঠাৎ এমন গোলাগুলির ঘটনায় পুরো চরাঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পদ্মার কুষ্টিয়া অংশে পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনায় অবস্থান নেয় কাকন বাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত ডিগ্রির চরের কলাবাগানের ভেতর অবস্থান নেয় কালু বাহিনী।
এর আগে পদ্মা-গড়াই মোহনা এলাকাটি কালু বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এবার ওই এলাকার দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে কাকন বাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কাকন বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্রলারে চড়ে এসে ডিগ্রির চর লক্ষ্য করে হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় মাঠে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কৃষক কাজ করছিলেন, যারা গুলির শব্দে প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এরপর ডিগ্রির চরে থাকা কালু বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
পরে বিকেল ৪টার দিকে কাকন বাহিনীর সমর্থনে আরও দুটি স্পিডবোটে করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং শক্তি বৃদ্ধি করে।
স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়ন জানান, “কাকন বাহিনী প্রথমে ট্রলারে করে এসে হামলা চালায়। পরে বিকেলে আরও দুটি স্পিডবোট এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১৫০ রাউন্ডের বেশি গোলাগুলি হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে রাজশাহী নৌ পুলিশের সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, “দুপুর আড়াইটার দিকে গোলাগুলির সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নৌ পুলিশের টিম পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের একটি দলও অভিযানে অংশ নেয়। নদী ও দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাবধানে এগোতে হচ্ছে।”
