কুষ্টিয়ার মিরপুরে গোল্ডেন বেঙ্গল টোব্যাকো কোম্পানিতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কাস্টমসের যৌথ দল।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কেউপুর এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজ শাহীন খসরু।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, কুষ্টিয়া কাস্টমসের সার্কেল-২ ভেড়ামারা রাজস্ব কর্মকর্তা ওমর ফারুক, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, কুষ্টিয়া কাস্টমস সার্কেল-১-এর রাজস্ব কর্মকর্তা বিজন কুমার তালুকদার, মিরপুর থানা পুলিশের একটি দল এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
অভিযান চলাকালে তিন ধরনের ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে তৈরি সিগারেটের প্যাকেট পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ব্যান্ডরোলগুলোর বৈধতা যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার শলাকা বেঙ্গল স্পেশাল সিগারেট জব্দ করে। এসব সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষায় জাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু সাংবাদিকদের বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, ওই কারখানায় অন্য কোম্পানির পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে অভিযানে অন্য কোম্পানির পণ্য পাওয়া যায়নি। পরে ব্যান্ডরোলে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে তিন ধরনের নমুনা শনাক্ত করা হয়। ব্যান্ডরোলের বিষয়টি কাস্টমস ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হওয়ায় নমুনাগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
কুষ্টিয়া কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নুরুল বাসির জানান, উপজেলা প্রশাসন ও কাস্টমস যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেছে। তিন ধরনের ব্যান্ডরোল পাওয়া যাওয়ায় ১০ হাজার শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। সিগারেটের প্যাকেটে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে নমুনা ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করবে।
