নিজস্ব প্রতিনিধি।।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোররাত থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বালুমহাল দখল, চরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং কৃষিজমির ফসল লুটের মতো অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের প্রায় ২০০ সদস্যের একটি সমন্বিত দল চরাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও নজরদারি চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাদের মধ্যে কোনো সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন কি না, তা বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে দিনব্যাপী অভিযানে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, চরাঞ্চলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গম চরাঞ্চলে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
