কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিখোঁজের ছয় দিন পর চার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ১১ অক্টোবর ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার আরেক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানায় পুলিশ। একইভাবে মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। পরে ঢাকায় নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার কিশোরী ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিল।
এদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। একপর্যায়ে অবস্থান শনাক্ত করে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। নিখোঁজ তিন কিশোরীকে ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একজন কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
